ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬,

রূপগঞ্জে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি, নিঃস্ব সাধারণ মানুষ

| নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

রূপগঞ্জে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি, নিঃস্ব সাধারণ মানুষ

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরি ডাকাতি এখন নিত্য দিনের ঘটনা। প্রায়  রাতেই কোন না কোন এলাকায় ঘটছে দুর্ধর্ষ চুরি ডাকাতির ঘটনা। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মনে আতংক বিরাজ করলেও প্রশাসন যেনো ঢিলেঢালা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ বা মামলা করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।তাছাড়া ডাকাতির অনেক ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় চুরির মামলা নেয়। এসব কারনে অনেকে থানায় মামলাও করেন না।

সরেজমিনে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার কোল ঘেষে গড়ে উঠা রূপগঞ্জ উপজেলা। শিল্পাঞ্চলখ্যাত এ উপজেলায় কর্মের তাগিদে দূরদূরান্ত থেকে এসে বসবাস করা মানুষের সংখ্যাও অনেক বেশি।  স্থানীয়দের পাশাপাশি শিল্পকর্মযজ্ঞ মানুষদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া বিভিন্ন সড়কের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই স্থানীয় সেবা গ্রহিতারা তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

সবশেষ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একই রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) রাত ২ টা থেকে ভোর পর্যন্ত এসব ডাকাতির ঘটনাগুলো ঘটে। 

সুতির পাড়ের মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে রাত ২ টার দিকে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও সর্ণালঙ্কার সহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায় ডাকাত দল। 

একই রাত ৩টার দিকে পাড়াগায়ের বাতেন মিয়ার বাড়ি থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্নলঙ্কারসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায় সঙ্গবদ্ধ ডাকাতদল।

তারপর ওই রাতেই ৪টার দিকে কায়েতপাড়া এলাকার হরিদাশের বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে হানা দেয় ডাকাত দল। ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৪ ডাকাত ঘরে ডুকে ৬ ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে বীরদর্পে চলে যায় ডাকাত দল। 

হরিদাস বলেন, রাত ৪ টার দিকে ঘরের দরজায় দাক্কাদাক্কি করলে আমাদের চিৎকারে পাশের ঘর থেকে ভাতিজা পিজুস এগিয়ে এলে ওকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে ডাকাতের দল। পরে আমাদের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আমারে চাকু দিয়ে পিটাতে থাকে। আলমারীর তালা ভেঙ্গে ৬ ভরি স্বর্ণ ও ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এসময় এলাকাবাসীরা এগিয়ে এলে ডাকাতদল চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী পিজুস বলেন, ১০-১২ জনের ডাকাত দল এসেই পিলার দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফিল্মি স্টাইলে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর নির্বিঘ্নে ডাকাতি করে দ্রুত সরে যায়।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, চুরি ডাকাতি হচ্ছে, পুলিশও বসে নেই। মামলা না করলে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের লোকবল সঙ্কট রয়েছে। তারপরও আমরা সাধ্যমত প্রতিটি এলাকায় টহলের ব্যবস্থা করেছি। অপরাধ নিধনে, অপরাধীদের ধরতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

Link copied!