ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,
রয়টার্সের প্রতিবেদন

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে আলোচনা

পরিবর্তনের ডাক | নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে আলোচনা

ঢাকা : বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ইসলামাবাদে দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংগ্রহসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অ্যারোস্পেস গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে প্রাথমিক ও উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান জানান, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও তারা প্রস্তুত। এ ছাড়া বাংলাদেশের পুরনো বিমানবহরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে রাডার ব্যবস্থা সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের আইএসপিআরের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেএফ–১৭ কেনার বিষয়টি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের ইঙ্গিত : ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, এই সফর ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সামরিক পর্যায়েও একাধিক যোগাযোগ হয়েছে।

জেএফ–১৭ ও পাকিস্তানের অস্ত্র রপ্তানি কৌশল : চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়ন ও অস্ত্র রপ্তানি কৌশলের অন্যতম প্রধান উপাদান। আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের অস্ত্র চুক্তিতেও এই যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে সাফল্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সামরিক বিমানগুলো পরীক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশকে ঘিরে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এমটিআই

পরিবর্তনের ডাক

Link copied!