ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সপ্তাহে একদিন মোবাইল থেকে বিরতি নেওয়া কেন জরুরি

পরিবর্তনের ডাক | লাইফস্টাইল ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

সপ্তাহে একদিন মোবাইল থেকে বিরতি নেওয়া কেন জরুরি

ঢাকা : আজকের জীবনে মোবাইল ফোন যেন শ্বাসের মতো প্রয়োজনীয়। কাজ, খবর, যোগাযোগ, বিনোদন— সব কিছুতেই আমরা এই ছোট্ট ডিভাইসটির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন, এই নির্ভরতা কখন ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়েছে? সকাল ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে চোখ বন্ধ করা পর্যন্ত, আমরা প্রায় অবিরাম পর্দায় তাকিয়ে থাকি। এর ফলে কমছে মনোযোগ, বাড়ছে উদ্বেগ, নিদ্রাহীনতা আর একাকীত্বের অনুভূতি।

এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার এক সহজ উপায় হলো— সপ্তাহে একদিন “মোবাইল ছুটি” নেওয়া। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট একটি দিন মোবাইল ছাড়া কাটানো। শুনতে কঠিন মনে হলেও, এটি হতে পারে আপনার মানসিক ভারসাম্য ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, সপ্তাহে একদিন মোবাইল থেকে বিরতি নেওয়া কেন জরুরি এবং এটি কিভাবে আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

১. মনোযোগ ও মানসিক স্বচ্ছতা বাড়ায়
মোবাইল স্ক্রিনের ক্রমাগত নোটিফিকেশন আমাদের মনোযোগ ভেঙে দেয়। এক কাজ করতে করতে আরেকটিতে চলে যাই, ফলে কোনো কিছুতেই মন বসে না। একদিন মোবাইল ছাড়লে মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম পায়। চিন্তা স্পষ্ট হয়, মন শান্ত হয়, এমনকি সৃজনশীল ভাবনাও ফিরে আসে।

২. ঘুমের মান উন্নত করে
ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার করলে চোখে নীল আলো লাগে, যা ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’-এর নিঃসরণ কমায়। ফলে ঘুম গভীর হয় না, সকালে ক্লান্তি লাগে। একদিন ফোনবিহীন কাটালে আপনি বুঝবেন, ঘুম কতটা প্রশান্ত হতে পারে।

৩. সম্পর্ককে বাস্তব করে তোলে
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমরা প্রায়ই ফোনে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু একদিন মোবাইল ছাড়া থাকলে আপনি কথাগুলো মন দিয়ে শুনবেন, মুখের হাসিগুলো খেয়াল করবেন। বাস্তব সংযোগের এই অনুভূতি ডিজিটাল যোগাযোগের চেয়ে অনেক বেশি গভীর।

৪. মানসিক চাপ কমায়
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের জীবন দেখে অনেক সময় নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি জন্মায়। ‘তারা এত ভালো আছে, আমি কেন না?’— এই তুলনাই আমাদের অজান্তে ক্লান্ত করে তোলে। ফোন থেকে দূরে থাকলে এই চাপ কমে যায়। নিজের জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়ে, মন হয় হালকা।

৫. সময় ব্যবহারে শৃঙ্খলা আনে
মোবাইল ছাড়া একদিন কাটানো মানে হঠাৎ অনেকটা সময় হাতে পাওয়া। এই সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, রান্না বা পরিবারের সঙ্গে গল্প করার মতো কাজ করতে পারেন। আপনি দেখবেন— সময় আসলে কম নয়, আমরা শুধু ভুল জায়গায় তা নষ্ট করি।

৬. আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয়
মোবাইল থেকে দূরে থাকলে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ মেলে। জীবনের দৌড়ঝাঁপের বাইরে গিয়ে আপনি ভাবতে পারবেন— কোথায় যাচ্ছেন, কী চান, কী বদলানো দরকার। এই আত্মসমালোচনা মানুষকে আরও পরিণত ও সচেতন করে তোলে।

৭. প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধন গড়ে তোলে
মোবাইল ছাড়া থাকলে চোখ উঠবে আকাশের দিকে, কানে পৌঁছাবে পাখির ডাক। প্রকৃতির এই স্পর্শ মনকে স্থির করে। সপ্তাহে একদিন প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের থেরাপির মতো কাজ করে।

কীভাবে শুরু করবেন?
প্রথমে একটি দিন বেছে নিন— হয়তো শুক্রবার বা শনিবার। আগেভাগে প্রিয়জনদের জানিয়ে দিন, ওইদিন আপনি ফোনে থাকবেন না। প্রয়োজনে জরুরি যোগাযোগের জন্য কাউকে বিকল্প নম্বর দিন। ফোন বন্ধ রেখে বই, হাঁটা, পরিবার বা নিজের কোনো শখে সময় দিন।

শেষ কথা : মোবাইল ফোন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু তা যেন জীবনটাকেই গ্রাস না করে ফেলে। সপ্তাহে একদিন ফোনের ছুটি নেওয়া মানে প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা নয়, বরং নিজেকে ফেরানো— নিজের সময়, মনোযোগ ও শান্তিকে পুনরুদ্ধার করা। চেষ্টা করে দেখুন, হয়তো আপনি খুঁজে পাবেন একদিনের নীরবতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক অজানা প্রশান্তি।

এমটিআই

পরিবর্তনের ডাক

Link copied!