ঢাকা : আমাদের সমাজে যৌন শিক্ষা নিয়ে কথা বলা যেন এখনও অপরাধ। পরিবারে, স্কুলে, এমনকি বন্ধুমহলেও এই বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা প্রায় অসম্ভব। লজ্জা আর ভয়ের কারণে এই নীরবতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। অথচ এই নীরবতাই সৃষ্টি করছে নানা ভুল ধারণা, অজ্ঞতা এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার ফলে তরুণ-তরুণীরা অনেক সময় ভুল পথে পরিচালিত হয়। প্রজনন স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ সম্পর্ক বা রোগ প্রতিরোধ—এসব নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় তারা পড়ছে বিপদে। অল্পবয়সে বাল্যবিবাহ বা অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণের মতো সমস্যাও অনেকাংশে এই অজ্ঞতার ফল। শুধু তাই নয়, যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির মতো ঘটনার শিকার হলে অধিকাংশ শিশু ও কিশোর জানেই না, কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়, কোথায় নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
সঠিক তথ্যের অভাব কুসংস্কারকে আরও বাড়িয়ে তোলে। “এ নিয়ে কথা বলা লজ্জার” এই ধারণা মানুষকে চুপ করিয়ে রাখে, আর সেই সুযোগেই বাড়ে অপরাধ। অথচ প্রমাণিত হয়েছে, যৌন শিক্ষা মানে অশ্লীল কিছু নয়, বরং দায়িত্বশীল ও সচেতন জীবনযাপনের মূল ধাপ। এটি শেখায় শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন, পারস্পরিক সম্মান, সম্মতির গুরুত্ব এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার উপায়।
পরিবার, স্কুল এবং সমাজ যদি খোলাখুলি ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে এই শিক্ষা দেয়, তবে শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে না, শিশুরা নিজেদের অধিকারও চিনতে শিখবে। অনেক দেশেই পাঠ্যক্রমে যৌন শিক্ষা বাধ্যতামূলক, ফলে সেখানে যৌন রোগ, কিশোরী মাতৃত্ব বা নির্যাতনের হার তুলনামূলকভাবে কম।
এখন সময় এসেছে আমাদেরও এই নীরবতার দেয়াল ভাঙার। সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে, স্কুলে বৈজ্ঞানিক ও বয়সভিত্তিক যৌন শিক্ষা চালু করতে হবে। সমাজকে বুঝতে হবে, এ নিয়ে কথা বলা অশালীন নয়, বরং সবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
যৌন শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। যতদিন আমরা এই আলোচনাকে লজ্জার আড়ালে রাখব, ততদিন অজ্ঞতা ও অপরাধের চক্র চলতেই থাকবে। তাই এখনই দরকার সাহসী পদক্ষেপ—খোলাখুলি কথা বলা, সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে নিরাপদ ও সচেতন ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দেওয়া।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :