ঢাকা : আজকের যুগে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযুক্ত, কিন্তু একই সঙ্গে অনেক বেশি একাকী। ফোন, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের উপস্থিতি থাকলেও বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলো অনেক সময় দূরত্বে ঢাকা পড়ে যায়। অথচ মানুষ মূলত সামাজিক প্রাণী—তার মানসিক ভারসাম্য, সুখ, এমনকি শারীরিক সুস্থতাও গভীর সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের জীবনে আন্তরিক বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল, ইতিবাচক এবং দীর্ঘায়ু হন। সম্পর্ক শুধু আনন্দ নয়, এটি মানসিক আশ্রয়ও।
চলুন দেখি কেন এবং কীভাবে মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক জীবনের অপরিহার্য অংশ—
১. মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি বন্ধুত্ব : একটি খোলা মনের সম্পর্ক মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমায়। যখন আপনি কারও সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারেন, তখন মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়—যা প্রশান্তি ও নিরাপত্তা দেয়।
২. একাকিত্ব শরীরের ক্ষতি করে : গবেষণায় দেখা গেছে, একাকিত্ব ধূমপান বা স্থূলতার মতোই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শুধু মনকে নয়, শরীরকেও সুস্থ রাখে। নিয়মিত কথা বলা, দেখা করা বা একসঙ্গে সময় কাটানো হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩. সম্পর্ক জীবনকে অর্থবহ করে তোলে : কাজ, সাফল্য বা সম্পদ এক সময় ফিকে হয়ে যায়, কিন্তু সম্পর্ক টিকে থাকে। কারও পাশে থাকা, কারও যত্ন নেওয়া—এসবই মানুষকে তার অস্তিত্বের অর্থ দেয়।
৪. প্রযুক্তি নয়, অনুভূতি প্রয়োজন : ভার্চুয়াল যোগাযোগ যতই বাড়ুক, তা কখনোই বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প নয়। এক কাপ চা ভাগাভাগি করে বসা, চোখে চোখ রেখে কথা বলা বা কোনো স্পর্শ—এসবই মানবিক সংযোগের প্রকৃত রূপ।
৫. সম্পর্ক গড়ে ওঠে সময় ও যত্নে : বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক হঠাৎ তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে শ্রবণ, সহানুভূতি ও সময় দেওয়ার মাধ্যমে। কখনও শুধু উপস্থিত থাকাটাই যথেষ্ট, কথা নয়—সঙ্গই আসল।
মানুষের জীবনে প্রযুক্তি, সাফল্য, অর্থ—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সব কিছুর পরে যেটা থেকে যায়, তা হলো সম্পর্ক। একে অপরের পাশে থাকা, বোঝা, ভাগাভাগি করা—এই মানবিক বন্ধনই জীবনের আসল উষ্ণতা। সত্যি বলতে, মানুষের পাশে মানুষই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর নিরাপত্তা।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :