ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,

গণপ্রতিরক্ষার শক্তিশালী স্তম্ভ ভিডিপি: সুবর্ণজয়ন্তীতে মহাপরিচালক

| নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

গণপ্রতিরক্ষার শক্তিশালী স্তম্ভ ভিডিপি: সুবর্ণজয়ন্তীতে মহাপরিচালক

গাজীপুরঃ “গ্রাম ও নগরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ সদস্যের এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারে।

“স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রয়োগে সহায়তা, সামাজিক অপরাধ দমন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজ এবং জরুরি মানবিক সহায়তাসহ নানাবিধ সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তারা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

রবিবার (৫ জানুয়ারী) সকালে গাজীপুরের সফিপুরের আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে  বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত "ভিডিপি দিবস" অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথ বলেন। 

ভিডিপি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদস্যদের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক আরও বলেন,

“আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আনসার–ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় ভিডিপি সদস্যরা কৃষি, মৎস্য ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, বহুল প্রতীক্ষিত ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলার ১২টি উপজেলায় চালু হয়েছে। পরিকল্পিত ও টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে এই প্রকল্প দেশব্যাপী ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ সুগম করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সকল ভিডিপি সদস্যকে আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ AVMIS-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউলের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্ষম, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ভিডিপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।”

ভিডিপি প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বাহিনী প্রধান বলেন, “অদম্য সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভিডিপিকে আরও সুশৃঙ্খল, প্রশিক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী বাহিনীতে পরিণত করা যায়। তাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি গড়ে উঠবে।”

শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো, কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপি’র গৌরবময় যাত্রা শুরু হয়।

উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক, উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক ভিডিপি সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!