নওগাঁ ২ আসন (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা জেলা জুড়ে। হঠাৎ সেই সমালোচনার মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী। তার রাজনীতির জীবন জাতীয় পার্টি দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস এর রাজনীতি সাথে জড়িত। সক্রিয় দুই দল বিএনপি ও জামায়াত তাদের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পরই হঠাৎই রাজনীতিতে নতুন চমক দিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। গত ৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন। তার এই যোগদান কে নওগাঁ ২ আসনের আপামর জনগণ ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্র।
বিভিন্ন রাজনীতিবীদ ও সুশীল সমাজরা বলছেন, জামায়াতসহ ৮ টি ইসলামী দল জোট করেছে যা আমাদের সকলেরই জানা। আমরা দেখেছি এই আসনটি তে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তারা স্বপ্ন দেখছিলো হয়তো এই আসনটি তাদের হবে। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর চৌধুরীর খেলাফত মজলিসে যোগদান এবং খেলাফত মজলিস থেকে এমপি প্রার্থী হিসাবে প্রচার প্রচারণা নিসন্দেহে জামায়াতে ইসলামী'র স্থানীয় রাজনীতিতে ভাবনার বিষয়। রাজশাহীতে যদি কোন আসন ছেড়ে দিতে হয় তাহলে এই আসনটি জামায়াত কে ছেড়ে দিতে হতে পারে।
অপরদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বাঘা প্রার্থী আওয়ামী লীগের কাজী আব্দুল মজিদকে টপকিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে ব্যাপক ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তার পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ভোটাররা বলেন, তখন আমরা পিতলের কলস খেজুরের গাছে লাগিয়ে ঘুমিয়েছি চুরির কোনো ভয় ছিল না। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষনা করেছিলেন আপনারা ঘরের দরজা খুলে ঘুমান, কোনো ক্ষতি হলে আমি তা পূরণ করে দেব। সত্যিই আমরা নিরাপদ ছিলাম। সোনালী শাসন দেখেছি তার আমলে। মৌলিক সকল উন্নয়নের রুপকার ছিলেন তিনি। জনগণের পাহারাদার ছিলেন। কোনো মায়ের সন্তান বলতে পারবে না যে তিনি একটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। আমরা তাকে আবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সেই সুন্দর অতিত ফিরিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ।
জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন বহুদিন আগে। পরে তিনি তৌহিদী জনতার সাথে সকল আন্দোলন এবং সংগ্রামে সামনের কাতারে ছিলেন। কিছু দিন পূর্বে আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন এবং আমীরে মজলিস ৪৭ নওগাঁ ২ আসনে রিকশা প্রতিকে তাকে মনোনয়ন দিলে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএসএ মোঃ হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন - আমি শতভাগ আশাবাদী আমার অতিত অভিজ্ঞতা কে দেশ এবং জাতির স্বার্থে কাজে লাগাতে আট দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আমার নাম আসবে। সবাইকে নিয়ে একটি মডেল, উন্নত এবং নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। আর যদি অন্য কাওকে মনোনয়ন দেয়া হয় তবুও আমি সবাইকে নিয়ে দলীয় নির্দেশনা মেনে কাজ করব ইনশাআল্লাহ ।

আপনার মতামত লিখুন :