নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার নরাবোরটেক এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার ছানোয়ার (৬৫) ও নুরুর (৬৭) বিরুদ্ধে। আর পৈশাচিক এ কাজে নয়ন (৪৮), ফালান (৫০) সহ স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতীকারীরা সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সন্ত্রাসীরা মেয়েটিকে হত্যার হুমকী দেয়। তাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনার ১১ দিন পর আজ মঙ্গলবার ধর্ষণের অভিযোগে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা নবী হোসেন।
জানা যায়, ১৪ই ফেব্রুয়ারী সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশের কাঠ বাগানে খেলতে ছিল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েটি। কিন্তু তখনও জানতোনা তার আসে পাশেই নরপশুরা অবস্থান করছিলো তার সর্বনাশ করতে। এ সময় একই এলাকার সানোয়ার শিশুটিকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। সরলমনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুটি তার অসৎ উদ্দেশ্য বুজতে না পেরে সানোয়ারের ঘরে যায়। পরে নুরুর সহযোগীতায় প্রথমে সানোয়ার ও পরে নুরু নিজেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় সহযোগীতা করে এলাকার আরো ১০-১২জন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মেয়েটিকে হত্যার হুমকী দেয় তারা। তাই ভয়ে ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে চোখের জলে ভাসতে থাকে চোট্ট শিশটি কিন্তু ঘটনার ২দিন পর তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে দরিদ্র অসহায় পরিবার শিশুটিকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরিবারকে জানানো হয় শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে। এ ঘটনায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ে হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মাঝে। পরে পরিবারের আশ্বাসে এক দিকে ঢুকরে ঢুকরে কা্দছিল শিশুটি আর একে একে সবার নাম বলতে থাকে। বর্ণনা করে ঘটনার ভয়াবহতা। এতে ঘাবড়ে যায় মেয়েটির অসহায় দরিদ্র কৃষক বাবা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাইলে ধর্ষক ছানোয়ারের আত্মীয় ও এ কাজে সহায়তাকারী নয়ন তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেন। অন্যথায় পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকী দেয় তারা। ফলে বিচার চেয়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে উল্টো পালিয়ে বেড়াচ্ছিল অসহায় পরিবার। এ ঘটনার ১১দিন পর আজ মঙ্গলবার প্রতিবন্ধী শিশুটির বাবা নবী হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ৪জনকে নামীয় ও ৮-১০জনকে অঙ্গাত আসামী করে মামলা করেন।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষোভে ফোঁসে উঠে এলাকাবাসী। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন তারা। অন্যথায় এসব সন্ত্রাসীদের ধারা এলাকায় এমন জঘন্য কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। ঘটনার পর থেকে ধর্ষকরা তাদের দলবল নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবাবকে চাপ দিচ্ছে এবং টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ছানোয়ার ও নুরুকে দ্রুত পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি যারা অর্থের বিনিময়ে এমন জঘন্য অপরাধের ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশংকা রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা নবী হোসেন বলেন, ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং শারীরিক ভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পরেছে। এ ঘটনায় কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ দিছে। এতে ন্যায়বিচার বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
শিশুটির পরিবার আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে পরিবারের নিরাপত্তা যেয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগীর দাবি জানান।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জেষ্ঠ্য সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :