ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬,

রূপগঞ্জে চাঁদার দাবিতে কারখানায় হামলার অভিযোগে থানায় মামলা, সঠিক তদন্ত চায় এলাকাবাসী

| নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

রূপগঞ্জে চাঁদার দাবিতে কারখানায় হামলার অভিযোগে থানায় মামলা, সঠিক তদন্ত চায় এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি মামলাকে কেন্দ্র করে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে নোয়াগাঁও, জিন্দা সহ  আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। এলাকায় বৈছে থমথমে পরিবেশ। এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। গেলো ১৭ ফেব্রুয়ারী দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে একটি কারখানায় সন্ত্রাসী হামলা করে প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় কারখানা চালু রাখা হয়েছে বলে দাবি মালিক- শ্রমিকদের। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে প্রশাসন বলছে মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের মৌখিক অভিযোগ করেছেন অনেকে তবে, লিখিত দেয়নি কেউ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম নোয়াগাঁও। এখানে একটি জিআই তার তৈরি কারখানায় হামলার অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। মামলার পর থেকে পুলিশ পাহারায় কাজ করছে বলে অভিযোগ কারখানার মালিক-শ্রমিকদের। এমন ঘটনায় দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সবাই।

কারখানাটির ম্যানেজার অলিউল্লাহ জানান, তিনি গত ১ মাস যাবৎ এ কারখানাটিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে আসছেন। কিছুদিন ধরে স্থানীয় চাঁদাবাজরা এককালীন ১০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা শর্তে চাঁদা দাবি করে আসছিল। আর চাঁদার টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ১৭ ফেব্রুয়ারী কারখানাটিতে ব্যপক ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। তাই হতাশা প্রকাশ করেন তিনি এবং আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

কারখানার শ্রমিকরা জানান, পেটের দায়ে জীবণের ভয় নিয়েও কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে। কারখানার সামনে পুলিশ পাহারায় থাকলেও কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে বা কারখানায় আসা যাওয়ার সময় ভয়ে থাকতে হয় কখন কি হয়ে যায়। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রত সময়ের মধ্যে যেনো প্রকৃত আসামীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। 

"বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি এজেন্সি ও বিএলও ওভারসীজ লিমিটেডের মালিক মোনোয়ার হোসেন অপু বলেন, রূপগঞ্জের দাউদপুরে তার মালিকানাধীন একটি জিআই তার কারখানা রয়েছে। গেলো ১৭ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা এককালীন ১০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার মেইন গেট ও বাউন্ডারি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় হামলা চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। সন্ত্রাসী হামলা করে কারখানার ম্যানেজার-ফোরম্যানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতির স্বজন বেলায়েত আকন্দ, সজল, কাজল সহ ৯জনকে নামীয় ও ১৫-২০জনকে অঙ্গাত আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। কিন্তু ওই মামলায় এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কালনী এলাকার আমির হোসেন, ওলপ এলাকার আবেদ আলী মোল্লা, জিন্দা এলাকার সেলিম, নাজিম উদ্দীন মিয়া সহ স্থানীয়রা বলেন, কারখানায় হামলার ঘটনায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনকে জড়ানো উদ্দেশ্য প্রনোদিত। প্রকৃত অর্থে তিনি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ। তার রাজনৈতিক বা ব্যক্তি জীবণে তার ধারা কারো কোন ক্ষতি হয়েছে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তাই কারখানায় হামলার ঘটনায় তাকে জড়িত করা সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ছাড়া কিছু নয়। তাই এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যে বা যারা ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হউক এবং প্রকৃত সত্য জাতীর সামনে তুলে ধরা হউক।

এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড মাহফুজুর রহমান হূয়মান বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি সকলের সহযোগিতায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করি। 


এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কারখানাটি পুলিশ পাহারায় চালু রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্প পুলিশ। তদন্তের পর প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের মৌখিক  অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত আবেদন করেনি।

Link copied!