ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,

শেরপুরে জেরিনের হাত ধরে স্বাবলম্বী শতাধিক নারী

| শেরপুর প্রতিনিধি

ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

শেরপুরে জেরিনের হাত ধরে স্বাবলম্বী শতাধিক নারী

​রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে যখন বিসিএস কিংবা কর্পোরেট চাকরির সোনালি হাতছানি ছিল সামনে, তখন সেই পরিচিত পথে না হেঁটে শিকড়ের টানে নিজের জেলায় ফিরে আসার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন সানজিদা জেরিন। শেরপুরের শ্রীবরদী পৌর শহরের এই নারী এখন কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন বরং তিনি এই অঞ্চলের শত শত অবহেলিত ও গৃহবন্দি নারীর কাছে এক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা।

২০১৮ সালে মাত্র একটি সেলাই মেশিন নিয়ে যে ‘জেরিন বুটিক হাউজ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ ডালপালা মেলে শ্রীবরদীর শতাধিক নারীর কর্মসংস্থানের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। সানজিদার এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, এখানকার নারীরা তাদের ঘরের কাজের ফাঁকেই তৈরি করছেন উন্নতমানের বুটিক পণ্য, নকশিকাঁথা, বিছানার চাদর ও পাঞ্জাবির মতো পোশাক, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

​সানজিদার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। শুরুতে সমাজের অনেকের নিরুৎসাহ আর বাধার মুখে পড়লেও দমে যাননি তিনি। স্বামী হাসান ফরহাদ বিদ্যুতের অনুপ্রেরণা আর নিজের অদম্য সাহসে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে শূন্য হাতেও সাম্রাজ্য গড়া যায়। বর্তমানে শ্রীবরদী হাসপাতাল গেট সংলগ্ন তাঁর শোরুমটি এই অঞ্চলের হস্তশিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যই নয়, সানজিদা জেরিন একজন সফল ও আদর্শ মা হিসেবেও এলাকায় সমাদৃত। তাঁর সন্তান ইব্রাহিম হাসান মায়ের মতোই মেধার স্বাক্ষর রেখে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের মুকুট অর্জন করেছেন। সংসার, সন্তান আর বিশাল এক কর্মীবাহিনী সামলানো এই নারী মনে করেন, মা হওয়ার অর্থ কেবল সন্তান লালন-পালন নয় বরং সমাজকে সুন্দর কিছু উপহার দেওয়া এবং অন্য নারীদের পথ দেখানো।


​ব্যক্তিগত পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ‘জয়ীতা’ নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজের ব্যবসার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ট্রেইনার হিসেবে কাজ করে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। সানজিদা জেরিনের জীবনকাহিনি স্পষ্ট করে দেয় যে, নারীরা যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সঠিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যায়, তবে কোনো অভাব বা সামাজিক বাধা তাদের অগ্রযাত্রা রুখতে পারে না। তাঁর নিপুণ হাতে তৈরি প্রতিটি সুতোর কাজ যেমন নান্দনিক সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে, তেমনি তাঁর জীবনযুদ্ধ আগামীর নারীদের জন্য তৈরি করে দিচ্ছে স্বাবলম্বিতার এক রাজপথ।

Link copied!