বগুড়া : বগুড়ার গাবতলীতে তোজাম্মেল হক মোল্লাকে (৪৫) পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যা মামলার রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অন্য তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবির এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার নিজ দূর্গাহাটা গ্রামের গুটু প্রামানিকের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাবুল প্রামানিক (২৮), একই গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে মনিরুজ্জামান মিশু (২৭) ও আবদুল মালেকের ছেলে মো. মানিক (২৮)। তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এছাড়া উপজেলার বৈঠাভাঙ্গা গ্রামের মৃত মগলা প্রামানিকের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দুলু (৫৮), মৃত মোজাহার আলী প্রামানিকের ছেলে মাজেদুর রহমান পিন্টু (উপস্থিত) এবং বিশু আকন্দের ছেলে আশিক হাসান আশিক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাজেদুর রহমান পিন্টু ও আশিক হাসান আশিককে অন্য ধারায় এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ জরিমানা অনাদায়ে তাদের দুমাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত দেলোয়ার হোসেন দুলুর ছেলে শাফায়াত হোসেন পাপ্পু ও তৌহিদুল ইসলাম পল্লব ওরফে প্লাবন ওরফে মুন্না ঘটনার সময় অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকায় শিশু আদালতে তাদের বিচার চলছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আবদুল মান্নান সাকিদারের ছেলে শান্ত সাকিদার (২৯) বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার দূর্গাহাটা ইউনিয়নের দূর্গাহাটা গ্রামের মৃত ওসমান মোল্লার ছেলে তোজাম্মেল হক মোল্লা গত ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর দুপুরে ছোট ভাই নয়ন মোল্লা ও গ্রাম্য ভাতিজা আসাদকে মোটরসাইকেলে নিয়ে একই গ্রামের মটু প্রামানিকের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। তারা বৈঠাভাঙ্গা চারমাথার কাছে পৌঁছালে আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলে গতিরোধ করেন। এরপর তারা রামদা, চায়নিজ কুড়াল, সামুরাই ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালান। এ সময় আসাদ পালিয়ে গেলেও হামলকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তোজাম্মেল হক ও নয়ন মোল্লাকে কুপিয়ে পালিয়ে যান। দুজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তোজাম্মেলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম হওয়া নয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে নিহতের ভাই মোমিন মোল্লা পরদিন গাবতলী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গাবতলী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে সিআইডির তৎকালীন পরিদর্শক ছকির উদ্দিন সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। প্রায় আট বছর সাক্ষ্য গ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষে আদালত মঙ্গলবার দুপুরে তিনজনকে ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন ও একজন খালাস দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আবদুল বাছেদ জানান, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন ছাড়া অন্যরা পালাতক রয়েছেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এ রায়ে হতাশ হয়েছেন। তারা বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। অধিকাংশ আসামি পলাতক থাকায় বাদী পক্ষের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অবিলম্বে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :