ঢাকা : ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠী আদানি গ্রুপ ১ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা হবে বিশাল সক্ষমতার ব্যাটারি ব্যাংকে। ভারতের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পে অসংখ্য লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সমন্বয়ে ৭০০ টির বেশি ‘ব্যাটারি এনার্জী স্টোরেজ সিস্টেম’ (বিইএসএস) থাকবে। যা দিয়ে ৩৫৩০ মেগাওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করার ফলে সূর্যের অনুপস্থিতিতেও টানা তিন ঘণ্টা ধরে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।
মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে। কিন্তু রাতে কিংবা মেঘলা দিনে সূর্যের অনুপস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় উন্নত বিশ্বে এখন ঝুঁকছে বিইএসএসের দিকে।
বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য শক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে ভারতের খাভদা অঞ্চল। আর সেখানেই বৃহৎ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আদানি গ্রুপ। এখানে ব্যবহৃত হবে অত্যাধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যা শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আদানি গ্রুপ। তাদের এই উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিম্ন-কার্বন অর্থনীতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, এই ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা পিক লোড (সর্বোচ্চ শক্তি চাহিদার সময়) ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালনে জট কমানো এবং সৌর শক্তি উৎপাদনের সময় অতিরিক্ত শক্তি নষ্ট হওয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড আরও নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর হবে।
আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, ‘শক্তি সংরক্ষণই নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শুধু বৈশ্বিক মানদণ্ড স্থাপন করছি না, বরং ভারতের শক্তি স্বনির্ভরতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করছি। এই উদ্যোগ আমাদেরকে নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন এবং সাশ্রয়ী শক্তি সমাধান বৃহৎ পরিসরে সরবরাহ করতে সক্ষম করবে।’
বৃহৎ ওই প্রকল্পটি সফল বাস্তবায়নের পর ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ১৫ গিগাওয়াট-ঘন্টা ব্যাটারি স্টোরেজ সম্পন্ন সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা করছে আদানি। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে মোট ৫০ গিগাওয়াট ঘন্টা ব্যাটারি সংরক্ষণ ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্টানটি। এই পরিকল্পনা ভারতের নেট-জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্য এবং বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘গ্রোথ উইথ গুডনেস’ দর্শনে এগিয়ে চলা আদানি গ্রুপ: অহমেদাবাদভিত্তিক আদানি গ্রুপ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল ও বহুমুখী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর একটি। তাদের ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে জ্বালানি ও ইউটিলিটি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, মেটাল অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস, সমুদ্র বন্দও, শিপিং, রেল এবং ভোক্তাবান্ধব অন্যান্য খাতে।
গ্রুপের মূল দর্শন ‘জাতি গঠন’ এবং ভালোর সঙ্গে উন্নতি (গ্রোথ উইথ গুডনেস), যার মাধ্যমে তারা টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণে অবদান রেখে চলেছে। গ্রুপের বিভিন্ন সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি পরিবেশ, বৈচিত্র এবং যৌথ উন্নয়নের নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
আদানি গ্রুপের ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণ প্রকল্প ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বের টেকসই শক্তি ব্যবস্থার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :