ঢাকা : সাবেক স্ত্রীর দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় গ্রেপ্তারের ঘণ্টা কয়েক পরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম জামিন পেয়েছেন।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান তার জামিনের আদেশ দেন।
হিরো আলমের আইনজীবী শান্তা সাকসিনা তার মক্কেলের জামিন পাওয়ার তথ্য দেন।
আদালতের আদেশের পর বাকি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানা থেকে কারামুক্ত হন আলোচিত এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর। একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়তে দেখা যায় তাকে।
শনিবার দুপুরে হাতিরঝিলের উলন এলাকায় হিরো আলমের অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকালে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
পরে জামিনের শুনানিতে হিরো আলমের আইনজীবী শান্তা সাকসিনা জামিন চেয়ে আবেদন করে বলেন, গত ১ জুলাই হিরো আলম পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত স্থায়ী জামিন পান। চারটি ধার্য তারিখে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তার জামিন বাতিল হয়। শনিবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে।
এ রকম ভুল (আদালতে অনুপিস্থিত থাকার) আর হবে না তুরে ধরে জামিন প্রার্থণা করে আদালতে তিনি দাবি করেন, হিরো আলম কাউকে মেরেছে বা কুৎসা রচনা করেছে এমন উদাহরণ নেই।
“আলম (হিরো আলম) মার খেতে খেতে এ পর্যন্ত এসেছে। জামিন বাতিল হতে পাঁচটা কারণ থাকতে হয়। এর একটাও নাই। বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করছি।“
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান রুবেল জামিনের বিরোধীতা করে বলেন, চারটা ধার্য তারিখে তিনি আদালতে আসেননি। এখানেই তো আদালত অবমাননা করছে। হাজিরা না দিয়ে দুধ দিয়ে গোছল করলেন। সমাজকে কলুষিত করছেন। জামিন পেলে আবার পালাবেন।
শুনানিকালে রিয়া মনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তার বক্তব্য শুনতে চান। তখন রিয়া মনি বলেন, “হাজারটা মিডিয়া ডেকে আমাকে তালাক দেয়। আমাকে বাজে মেয়ে বলে। …তাহলে কীভাবে আমার সঙ্গে চার বছর সংসার করল।”
এসময় কাঁদতে কাঁদতে রিয়া মনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার তো বাঁচার অধিকার আছে। নৃশংস আচরণ করেছে আমার সাথে, সাইবার বুলিং করছে।"
এরপর হিরো আলমের আইনজীবী বলেন, "উনারা বলতে পারেন, আমরাও বলতে পারি। শান্তির পথে হাঁটি। কেউ যেন সাইবার বুলিংয়ের শিকার না হয়। জামিন দিলে শান্তির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। জামিনের পর আসামি যদি এক ডেটও আদালতে না আসে, দায়িত্ব নিচ্ছি মামলা ছেড়ে দিব।"
রিয়ার আইনজীবী এর বিরোধীতা করে বলেন, "আজ একজন আইনজীবী আছেন, কাল আরেকজন দাঁড়াবেন। বাদীকে ভয়-ভীতি দেখাবে।"
এসময় হিরো আলমের আইনজীবী তার কাছে জানতে চান, ভয়-ভীতি দেখাবেন কি না? উত্তর হিরো আলম বলেন, 'না।'
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে ২০০ টাকা মুচলেকায় হিরো আলমকে জামিনের আদেশ দেন।
এর আগে এদিন দুপুরে হাতিরঝিলের উলন এলাকায় হিরো আলমের অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, স্ত্রী রিয়া মনির দায়ের করা একটি মারামারির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
বাদী পক্ষের শুনানি নিয়ে গত ১২ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্তি মুখ্য মহানগর হাকিম ওয়াহিদুজ্জামান হিরো আলমের জামিন বাতিল করে ওই পরোয়ানা জারি করেন।
মামলায় বলা হয়, মনোমালিন্য থেকে স্ত্রী রিয়া মনিকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন হিরো আলম। এরপর মীমাংসার কথা বলে গত ২১ জুন হাতিরঝিল এলাকায় এক বাসায় তাকে ডেকে নেন।
এজাহারে বলা হয়, ওইদিন রিয়া মনি তার পরিবার নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হিরো আলমসহ অচেনা ১০ থেকে ১২ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরে রিয়া মনির হাতিরঝিলের বাসায় প্রবেশ করে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে হিরোসহ ১০-১২ জন। এসময় রিয়া মনির গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন কৌশলে নিয়ে যায় আসামিরা।
গত ২৩ জুন হাতিরঝিল থানায় এ মামলা করেন রিয়া মনি। মামলা হওয়ার পরপর বগুড়ার ধুনটে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন হিরো আলম।
২৭ জুন দুপুরে প্রথমে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে সেদিনই হিরো আলমকে দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে যান রিয়া মনি।
হিরো আলমের পাশাপাশি তার ‘সহযোগী’ আহসান হাবিব সেলিমকে এ মামলায় আসামি করা হয়। তারা দুজনই জামিনে ছিলেন।
কিন্তু ঠিকমত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ‘জামিনের শর্ত ভঙ্গের কারণে’ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :