ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
সুপার ওভারে ‘সুপার রিপন’

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

পরিবর্তনের ডাক | ক্রীড়া ডেস্ক

নভেম্বর ২১, ২০২৫, ০৮:০৬ পিএম

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ঢাকা : আকবর আলী বলটা ব্যাটে নিতে পারলেন না। লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বল তাঁর ব্যাটের পাশ দিয়ে চলে গেল পেছনে উইকেটকিপারের হাতে। আম্পায়ার মেললেন দুই হাত—ওয়াইড।

এই এক ওয়াইডে যেন কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আকবর। তাঁর শিশুতোষ এক ভুলে জেতা ম্যাচ হারতে বসেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেখান থেকে সুপার ওভারে সুয়াশ শর্মার ওয়াইডেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের জয়। যে জয় বাংলাদেশকে তুলে দিয়েছে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের ফাইনালেও।

এই জয়ের নায়ক ডানহাতি পেসার রিপন মন্ডল। সুপার ওভারে প্রথম দুই বলেই ভারত ‘এ’ দলের দুই উইকেট তুলে নিয়েছেন রিপন। এরপর ১ রানের লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশ প্রথম বলে উইকেট হারানোর পর ওই ওয়াইডের রানেই পেয়েছে জয়ের দেখা।

সুপার ওভারের আগে চরম নাটকীয়তা ছিল ২০ ওভারের মূল খেলায়। কাতারের দোহায় প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল করে ৬ উইকেটে ১৯৪। তাড়া করতে নামা ভারত ‘এ’ দলের শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ২১ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট।

ওই মুহূর্তে বল হাতে নিয়ে ৬ বলে মাত্র ৫ রান দেন রিপন, তুলে নেন ১টি উইকেটও। বাংলাদেশ অধিনায়ক শেষ ওভারে বল তুলে দেন রাকিবুল হাসানের হাতে। বাঁহাতি এ স্পিনার প্রথম পাঁচ বলে ১২ রান দিলে শেষ বলে ভারতের দরকার পড়ে ৪ রান। নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শেষ বলেই।

বাউন্ডারির চেষ্টা করলেও ব্যাটসম্যান হার্শ দুবের শট চলে যায় সোজা লং অন ফিল্ডারের কাছে। হতাশায় আচ্ছন্ন দুবে অনেকটা অনিচ্ছাতেই দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড়ান। এ দিকে উইকেটকিপার আকবর বল হাতে পেয়ে স্টাম্প ভাঙার চেষ্টা করেন। ভেবেছিলেন দুবে রানআউট হবেন, কিন্তু স্টাম্প তো ভাঙেইনি, কোনো ফিল্ডারও ছিলেন না কাছাকাছি। ফলাফল: ভারতের দুই ব্যাটসম্যানই সুযোগ পেয়ে তৃতীয় রান নিয়ে নেন। ম্যাচ হয়ে যায় টাই।

এরপর সুপার ওভারে আবারও জ্বলে ওঠেন সেই রিপনই। তাঁর প্রথম বল ছিল ইয়র্কার, স্ট্রাইকে থাকা ভারত অধিনায়ক জিতেশ শর্মা রিভার্স শট খেলতে গিয়ে বোল্ড। পরের বল তুলে মারতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন আশুতোষ শর্মা।

ভারত ০ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের দরকার পড়ে ১ রান। কিন্তু শুরুতে স্ট্রাইক নেওয়া ইয়াসির আলী প্রথম বলেই লং অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আকবর ব্যাট করতে নামার পরই সুয়াশ দেন ওয়াইড, ‘মুক্তির আনন্দে’ দুহাতে মোনাজাত ধরেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক।

এর আগে এই ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এই আকবরই নেহাল ওয়াদেরার সহজ ক্যাচ গ্লাভস থেকে ফেলে দেন। অবশ্য ক্যাচ–মিসে দলকে আরও বড় বিপদে ফেলেছিলেন জিশান আলম। ভারতের যখন শেষ তিন বলে ৮ রান দরকার, তখন বাউন্ডারিতে সহজ ক্যাচ ফেলেন জিশান, এমনকি মিসের পর বাউন্ডারিও ঠেকাতে পারেননি। ২ বলে সমীকরণ নেমে আসে ৪ রানে। রাকিবুল পঞ্চম বলে উইকেট নেওয়ার পর শেষ বলেও একই সমীকরণ থেকে যাওয়ার পর আকবরের ভুলে ম্যাচ টাই হয়ে সুপার ওভারে গড়ায়।

বাংলাদেশ ‘এ’: ২০ ওভারে ১৯৪/৬ (সোহান ৬৫, জিসান ২৬, জাওয়াদ ১৩, আকবর ৯, আবু হায়দার ০, মেহেরব ৪৮* মাহিদুল ১, ইয়াসির ১৭*; ভাইশাক ৪-০-৫১-০, গুরজাপনিত ৪-০-৩৯-২, হার্শ ৪-০-২২-১, সুয়াশ ৪-০-১৭-১, রামানদিপ ২-০-২৯-১, ধির ২-০-৩৩-১)।

ভারত ‘এ’: ২০ ওভারে ১৯৪/৬ (সুরিয়াভানশি ৩৮, প্রিয়ানশ ৪৪, ধির ৭, জিতেশ ৩৩, ওয়াধেরা ৩২*, রামানদিপ ১৭, আশুতোষ ১৩, হার্শ ৩*; রিপন ৪-০-৩৫-১, মেহরব ৪-০-৩৫-০, জিসান ১-০-১৪-০, সাকলাইন ৪-০-২৬-১, আবু হায়দার ৩-০-৪৪-২, রকিবুল ৪-০-৩৯-২)।

ফল: ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে বাংলাদেশ জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: এসএম মেহেরব।

এমটিআই

 

পরিবর্তনের ডাক

Link copied!