ঢাকা : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত আসরে ফিক্সিংয়ের নানা বিতর্ক ও অভিযোগের পর এবার দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট (আকু)। বিসিবির দাবি, আকুর এই বাড়তি তৎপরতার কারণেই টুর্নামেন্টে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
মাঠে ও মাঠের বাইরে আকুর এই অতি-তৎপরতা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিশেষ করে ঢাকা ক্যাপিটালস শুক্রবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অসন্তোষের কথা জানায়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অভিযোগ, আকুর কর্মকর্তারা হুট করে ক্রিকেটারদের রুমে ঢুকে পড়ছেন এবং ব্যাটিংয়ে নামার ঠিক আগমুহূর্তে খেলোয়াড়দের জেরা করছেন, যা ক্রিকেটারদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আফগান তারকা রহমানউল্লাহ গুরবাজের রুমে আকুর আকস্মিক প্রবেশ নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। এছাড়া দলের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদের মোবাইল ফোন জব্দ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের এমন অভিযোগের বিপরীতে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু আকুর কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানান, সবকিছুই নির্ধারিত কোড বা গাইডলাইন অনুযায়ী করা হচ্ছে। গুরবাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাইডলাইন বা কোডে যা আছে সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে এবং তাদের (আকু) পুরোপুরি অধিকার আছে মনিটর করার। তারা নিয়মের বাইরে কিছুই করছে না। কারও যদি এটা পছন্দ না হয়, তবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।
মিঠুর দাবি, কঠোর নজরদারির সুফল ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মনিটরিং কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিপিএলে সন্দেহজনক ঘটনার সংখ্যা আগের চেয়ে দ্রুত কমেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আইসিসি’র অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সাবেক প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি এলে নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে বলতে পারবেন দুর্নীতি কতটা কমেছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহীর ফোন জব্দ করা নিয়ে মিঠু স্পষ্ট করেন যে, এটি তদন্তের একটি নিয়মিত অংশ। তিনি বলেন, এমনি এমনি আকু কারো ফোন নেয় না। এটা মনিটরিংয়ের একটা অংশ। আমার ফোনও তারা যেকোনো সময় চাইতে পারে এবং তাদের সেই অধিকার আছে।
বিসিবির এমন অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টুর্নামেন্টকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অসন্তুষ্টির মুখেও আকুর কঠোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :