ঢাকা : সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে নরওয়ের বিপক্ষে গতকাল রোববার রাতে ইতালিকে জিততে হতো বড় ব্যবধানে। কিন্তু বড় ব্যবধানে দূরে থাক, উল্টো নরওয়ের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি ইতালি। ঘরের মাঠে উড়ে গেছে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
এই হারের পর ইতালির এখন আর সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ নেই। প্লে-অফের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। অন্য দিকে বাছাইপর্বে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল নরওয়ে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল দেশটি। এবার আর্লিং হলান্ড-আলেক্সান্দার সরলথদের হাত ধরে বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন পূরণ করল দেশটি।
সান সিরোতে গতকাল গোলের শুরুটা অবশ্য ইতালিই করেছিল। ফ্রান্সিসকো পিও এসপোসিতোর গোলে ১১ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ম্যাচের ৬৩ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারে ‘আজ্জুরি’রা। কিন্তু ৬৩ মিনিট থেকে দেখা মেলে অন্য এক নরওয়ের। প্রথমে গোল করে নরওয়েকে সমতায় ফেরান আন্তোনিও নুসা। এরপর এক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করেন হলান্ড। আর যোগ করা সময়ে ইতালির জালে চতুর্থবার বল জড়ান স্ট্রান্ড লারসেন।
এই ম্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে গ্রুপ ‘আই’-এর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের লড়াই। যেখানে ৮ ম্যাচের সব কটিতে জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকল নরওয়ে। সমান ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ইতালি আছে দুইয়ে।
এর ফলে ২০১৮ ও ২০২২–এর পর এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নিয়েও শঙ্কায় পড়ল ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপজয়ীদের প্লে-অফ অভিজ্ঞতাও কিন্তু সুখকর নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে ওঠার লড়াইয়ে প্লে-অফে তারা সুইডেনের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল। চার বছর পর ২০২২ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও ভেঙে যায় প্লে-অফে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে ১-০ গোলের হারে।
ইতালিকে হতাশায় ভাসিয়ে নরওয়েকে বিশ্বকাপে ফেরানোর নায়কের নাম হলান্ড। যিনি টানা ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে গোল করে এই রেকর্ডের পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা এই স্ট্রাইকার।
রেকর্ডটি এর আগে মালয়েশিয়ার আবদুল ঘানি মিনহাতের দখলে ছিল। যিনি ২৮ মে ১৯৬১ থেকে ২৮ আগস্ট ১৯৬২ পর্যন্ত টানা ১১ ম্যাচে গোল করেছিলেন। এখন হলান্ডের সামনে সুযোগ মিনহাতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
এদিকে ইতালি সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে না পারা নিয়ে দেশটির শীর্ষ ফুটবল সাংবাদিক জেমস হর্নক্যাসল ইউরো লিগস পডকাস্টে বলেন, ‘বিশ্বকাপ এখন আরও বড় হয়েছে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দল অংশ নিচ্ছে, তারপরও ইতালির বাদ পড়তে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রথমবার বাদ পড়ার সময় একে ‘মহাবিপর্যয়’ বলা হয়েছিল। এখন আমরা সেই মহাবিপর্যয়ের কোন স্তরে আছি, তা আমি সত্যিই জানি না।’
ইতালির কোচ গেনারো গাত্তুসো অবশ্য বাদ পড়ার কারণ হিসেবে বাছাইপর্বের প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সময়ে, সেরা রানার্সআপ দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে যেত। এখন নিয়ম বদলে গেছে।’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘১৯৯০ এবং ১৯৯৪ সালে আফ্রিকার দুটি দল ছিল (১৯৯৪ সালে তিনটি দেশ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল), আর এখন আছে ৯টি। এটা কোনো বিতর্ক নয়, কিন্তু এতে কিছু কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং আমরা তা ভালোভাবেই জানি।
দক্ষিণ আমেরিকায় দেখলে দেখা যায়, ১০ দলের মধ্যে ৬টি সরাসরি বিশ্বকাপে যায়। আর সপ্তম দল ওশেনিয়ার একটি দলের সঙ্গে প্লে-অফ খেলে। এটা দেখলে অবশ্যই আফসোস হয়, একটা দুঃখও লাগে। এটাই হতাশার বিষয়। ইউরোপে এই ব্যবস্থাটা বদলানো দরকার।’
একই রাতে জয় পেয়েছে আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ফ্রান্স। আজারবাইজানের বিপক্ষে দিদিয়ের দেশমের দল জিতেছে ৩-১ গোলে। তবে এই রাতে চমকের দেখা মিলেছে হাঙ্গেরি-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে। শুরুতে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি হাঙ্গেরি। ট্রয় প্যারটের হ্যাটট্রিকে ৩-২ গোলে জিতেছে আইরিশরা। এই হারে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল হাঙ্গেরির আর প্লে-অফে গিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল আয়ারল্যান্ড।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :