ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬,

সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পরিবর্তনের ডাক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম

সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা : সিরিয়ার দামেস্কের একটি বিমানঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সিরিয়ার রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির পরিকল্পনা আগে প্রকাশ্যে আসেনি। তবে এই পরিকল্পনাকে সিরিয়ার কৌশলগত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গত বছর ইরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাশার আল-আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়ার নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিমানঘাঁটিটি দক্ষিণ সিরিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত। এই ঘাঁটিটি মূলত মার্কিন নেতৃত্বাধীন চুক্তির আওতায় প্রস্তাবিত অসামরিক বা ডিমিলিটারাইজড জোন পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হবে।

পশ্চিমা ও সিরীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষক দল ইতিমধ্যে ঘাঁটির রানওয়ে ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। ঘাঁটিটি ব্যবহারের উপযোগী বলে নিশ্চিত করেছেন তারা। সেখানে লজিস্টিক সহায়তা, নজরদারি, জ্বালানি পুনরায় সরবরাহ ও মানবিক কার্যক্রম চালানো হবে, তবে ঘাঁটির সার্বভৌমত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ার হাতেই থাকবে।

পেন্টাগন ও সিরীয় কর্তৃপক্ষ এখনো এই পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আইএসআইএসের (ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করার জন্য সিরিয়ায় আমাদের প্রয়োজনীয় অবস্থান নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করছি। আমাদের বাহিনী কোথায় বা সম্ভাব্য অবস্থানের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না।’

তিনি অপারেশনাল সুরক্ষার কারণে ঘাঁটির নাম ও অবস্থান প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন।

এই পরিকল্পনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এটি হতে যাচ্ছে কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। তিনি সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

উদ্যোগটি লেবানন ও ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পর্যবেক্ষণ ঘাঁটির আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে সিরিয়া শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক জঙ্গি বিরোধী জোটে (আইসিস-বিরোধী) যোগ দিতে যাচ্ছে। বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েল-সিরিয়া চুক্তি চূড়ান্ত করতে ওয়াশিংটন এখন জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এমটিআই

পরিবর্তনের ডাক

Link copied!