ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

ট্রাক শ্রমিক থেকে ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়ার গল্প শোনালেন জুবা

পরিবর্তনের ডাক | ক্রীড়া ডেস্ক

নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

ট্রাক শ্রমিক থেকে ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়ার গল্প শোনালেন জুবা

ঢাকা : বাহিয়ার তারকা লেফট-ব্যাক লুসিয়ানো জুবা সোমবার ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে কাটালেন তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। সকালে লন্ডনে পৌঁছে বিকেলে আর্সেনালের ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। সিবিএফ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার ডাক পাওয়ার আবেগ, জীবনের সংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের গল্প।

“আজ আমার জন্য খুব বিশেষ একটা দিন। প্রথম ডাক, প্রথম অনুশীলন—সবকিছুই মনে রাখার মতো। বড় বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করা সম্মানের। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ আমি, তিনি আমার জীবনে যা করছেন তার জন্য। এই সুযোগটা যেন আমি সেরাভাবে কাজে লাগাতে পারি,” বলেন জুবা।

২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জানান, কোচ কার্লো আনচেলোত্তির মুখে নিজের নাম শুনে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। “যখন টিভিতে নিজের নামটা দেখলাম, মনে হচ্ছিল একটা সিনেমা চলছে—ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখা, সেরা তালাদায় প্রথম ট্রেনিং, স্পোর্টের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা, তারপর পেশাদার হওয়া—সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। তখনই বুঝেছিলাম, এতদিনের কষ্ট সার্থক হয়েছে,” বললেন জুবা।

আনচেলোত্তি বলেন, “জুবার টেকনিক্যাল প্রোফাইলটা গুরুত্বপূর্ণ। সে শুধু লেফট-ব্যাক নয়, মাঝমাঠেও খেলতে পারে। তার ধারাবাহিক উন্নতি দেখে মনে হয়েছে, এখনই তাকে মূল্যায়নের সময়।”

প্রশংসা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জুবা বলেন, “এমন একজন কিংবদন্তি কোচ যখন আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেন, সেটা আপনার পরিশ্রমেরই প্রমাণ। আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।”

রেসিফের উপকণ্ঠে জাবোয়াতাঁও দোস গুয়ারারাপেসে জন্ম জুবার। খুব অল্প বয়সে ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়নি তার। কৈশোরে পড়াশোনার পাশাপাশি দাদার সঙ্গে কাজ করতেন ট্রাক লোড-আনলোডের শ্রমিক হিসেবে।

“আমার দাদা ট্রাকের মাল উঠানো-নামানোর কাজ করতেন। কখনো কখনো আমিও যেতাম সাহায্য করতে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতাম, অনেক সময় স্কুলে যাওয়াই হতো না। কিন্তু এখন মনে হয়, সব কষ্টই সার্থক। আজ আমি পরিবারের জন্য ভালো জীবন এনে দিতে পেরেছি, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলেছি,” বলেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, “পেশাদার ফুটবলার হতে পারাটাই আমার স্বপ্নপূরণ ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে বুঝেছিলাম, সংগ্রামটা বৃথা যায়নি। এখন জাতীয় দলে এসে সেই স্বপ্ন আরও বড় হলো।”

২০১৭ সালে সেরা তালাদা ক্লাবের একাডেমি থেকে ফুটবলে যাত্রা শুরু জুবার। একই বছর স্পোর্ট ক্লাবে যোগ দেন, ২০২১ সালে ধারে খেলেন কনফিয়ান্সায়। ২০২৩ সালের আগস্টে বাহিয়ায় যোগ দিয়ে দলকে জিতিয়েছেন কাম্পেওনাতো বাইয়ানো ও ২০২৫ সালের কোপা দো নর্দেস্তে শিরোপা।

জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলো নিয়ে তিনি বলেন, “সেনেগাল ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে আমরা যেন জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারি, সেটাই চাই। সুযোগ পেলে আমি আমার সেরাটা দিয়ে দলকে সহায়তা করতে চাই।”

জুবা বলেন, “অনেকেই জাতীয় দলে আমার নাম দেখতে চেয়েছে, এটা প্রমাণ করে আমি ক্লাবে ভালো করছি। সব সময় বলেছি—ক্লাবে ভালো খেললে জাতীয় দলের নজরে আসা যায়। বাহিয়ার সহখেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার দারুণ মৌসুম কাটছে, সেই ধারাবাহিকতা নিয়ে এসেছি এখানে।”

জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা জানতে তিনি কথা বলেছেন এভারটন রিবেইরো, জিন লুকাস ও রজেরিও সেনির সঙ্গে। “তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, জাতীয় দলে থাকা কেমন লাগে। তারা সবাই বলেছে, '‘যাও, মন দিয়ে খেলো, সুযোগটা কাজে লাগাও।’ তাদের কথাগুলো অনুপ্রেরণা দিয়েছে,” জানান জুবা।

শেষে বাহিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “বাহিয়া আমার সাফল্যের বড় অংশীদার। ক্লাবটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে আরও বড় হচ্ছে। আমি চাই দলকে আরও সাফল্য এনে দিতে এবং নিজেও উন্নতি করতে।”

এমটিআই

পরিবর্তনের ডাক

Link copied!