ঢাকা : আজকের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বন্ধু, পরিবারের খবর জানা, সংবাদ, বিনোদন—সবকিছু এখন এক ক্লিকে। তবে এই সুবিধার সঙ্গে আসে অদৃশ্য মানসিক চাপ। বারবার নোটিফিকেশন, অন্যের জীবন দেখার তুলনা, নেতিবাচক মন্তব্য—এসব মিলিয়ে অনেকেই অবচেতনভাবে দুশ্চিন্তায় ভুগেন।
শিল্প, চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাময়িক হলেও সঠিক অভ্যাসে এই চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই পাঁচটি সহজ কৌশল—
১. সময় সীমা নির্ধারণ করুন : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে সীমা ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। একদিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি স্ক্রোল না করার জন্য ফোন বা অ্যাপের বিল্ট-ইন টাইমার ব্যবহার করতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বা রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত সময় কাটানো এড়ান। এটি মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২. নোটিফিকেশন কমিয়ে দিন : প্রতিটি লাইক, কমেন্ট বা মেসেজের নোটিফিকেশন মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। যেসব অ্যাপ বা চ্যানেল সবচেয়ে জরুরি, শুধুমাত্র সেগুলোর জন্য নোটিফিকেশন চালু রাখুন। বাকিগুলো দিন শেষে চেক করুন। এটি মনোযোগ বজায় রাখে এবং উদ্বেগ কমায়।
৩. নিজের সীমা বুঝে গ্রহণ করুন : সবার জীবনই পরিপূর্ণ নয়। অন্যের সফলতা দেখে ঈর্ষা বা হীনমন্যতা জন্মানো স্বাভাবিক, কিন্তু এটি চাপ বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সীমা বোঝা প্রয়োজন—কোন কনটেন্ট দেখতে চাইবেন, কোনটি আপনার মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
৪. ইতিবাচক কনটেন্টে মনোযোগ দিন : নেতিবাচক খবর বা বিতর্কমূলক পোস্ট আপনার মনকে অবসন্ন করতে পারে। চেষ্টা করুন সময়ের বড় অংশ কাটাবেন এমন কনটেন্টে, যা অনুপ্রেরণা দেয়—শিক্ষামূলক ভিডিও, প্রিয় বই বা hobbie বিষয়ক পোস্ট। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দ যোগ করে।
৫. অফলাইন কার্যক্রমে মন দিন : মোবাইল স্ক্রিন থেকে কিছুটা দূরে থাকা মানসিক চাপ কমানোর সহজতম উপায়। হাঁটা, বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—এসব অফলাইন কার্যক্রম মনকে স্থির করে। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ কমতে শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেবল বিপদ নয়; এটি আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে যদি সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয়। সময়, সীমা ও মনোযোগ ঠিক রেখে ব্যবহার করলে মন শান্ত থাকে, চাপ কমে, এবং জীবনে আসল আনন্দ ফিরে আসে।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :