ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,

বাবার ছায়াসঙ্গী জাইমা যেন খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি

পরিবর্তনের ডাক | নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

বাবার ছায়াসঙ্গী জাইমা যেন খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি

ঢাকা : জাইমা রহমান বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা। ব্যারিস্টারি পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। ১৭ বছর প্রবাসে কাটানোর পর বাবার দেশে ফেরার সূত্রে জাইমাও বাংলাদেশে আসেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হাসপাতালে, শোকসভায়, কফিনের পাশে এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে-সর্বত্র বাবার অবিচ্ছেদ্য ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা গেছে তাঁকে।

বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর মনে পড়ছে, নব্বইয়ের দশকে তারেক রহমানও ঠিক এভাবে মা খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী হয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নিয়েছিলেন। এবার জাইমার দৃশ্যমান ভূমিকায় অনেকে সেই ধারাবাহিকতা খুঁজে পাচ্ছেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নামবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করছে না দল।

গতকাল বিকেলেই দাদীর শেষ বিদায়ের দিনে জাইমা রহমান এক আবেগঘন ছবি শেয়ার করেছেন ফেসবুকে। ছবিতে দেখা যায়, চায়ের টেবিলে দাদী-নাতনি প্রাণবন্ত আলাপে মগ্ন। ছবির ক্যাপশনে তিনি যোগ করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদায়-বেলায়’ কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আবেগের সৃষ্টি করেছে।

গত অক্টোবরে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবারের সদস্যদের রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘সময় এবং পরিস্থিতিই তা বলে দেবে।’

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, গত এক সপ্তাহে জাইমার কর্মকাণ্ড শুধু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, দেশে তরুণ নেতৃত্বের জোয়ার চলছে। তারেক রহমান নিজেও তরুণদের রাজনীতিতে প্রাধান্য দিচ্ছেন। জিয়া পরিবার থেকে জাইমা রহমানকেও রাজনীতিতে প্রত্যাশা করছেন অনেকে। সামনের দিনে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দাদির রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবেন, এমন ধারণা অমূলক নয়।

২৯ বছর বয়সী জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে স্নাতক এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘বার অ্যাট ল’ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। 

গত ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার দাফনে অংশ নিয়ে জাইমা বাবার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পরিচিত হয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপির একটি ভার্চুয়াল দলীয় সভায় অংশ নেন। প্রবাসী ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনায় তিনি অংশ নিয়ে বলেন, ‘কাজ এগিয়ে নিতে হবে।’

ওই একই দিন ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে জাইমা লেখেন, ‘আমি দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘দাদুর কাছেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই-নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।’

পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতির শীর্ষে ওঠার উদাহরণ বিশ্বজুড়েই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বুশ পরিবার, কানাডার ট্রুডো, ভারতের গান্ধী-নেহেরু পরিবার বা পাকিস্তানের ভুট্টো-শরিফ পরিবার-সবখানেই উত্তরসূরিদের ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে উপস্থিত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাইমা রহমানের বর্তমান ভূমিকাও সেই বিশ্বজনীন কৌশলেরই প্রতিফলন।

অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের রাজনীতিতে উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যম এবং ধৈর্য ধরে যৌক্তিক সমাধান খোঁজা নেতৃত্বের অন্যতম গুণ। সত্যিই রাজনীতিতে এলে জাইমা রহমান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশে ফিরেই জাইমা বাবার সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তারেক রহমানের পর ডা. জুবাইদা রহমানকে রাজনীতির কাণ্ডারি ভাবার যে ধারণা ছিল, তা থেকে হয়তো সরে এসেছে দল। বরং খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি হিসেবে জাইমা রহমানকে সামনে আনতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মূল মঞ্চে পদার্পণ করেন।

এমটিআই

পরিবর্তনের ডাক

Link copied!